kalchitro
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১

ইতিহাসবিদ আহমদ মমতাজের প্রয়াণ


কালচিত্র প্রকাশিত: মে ৯, ২০২১, ০৮:৫৭ পিএম ইতিহাসবিদ আহমদ মমতাজের প্রয়াণ

ইতিহাসবিদ আহমদ মমতাজ

 

ইতিহাসবিদ আহমদ মমতাজও চলে গেলেন!! চাটগাঁর বেলা বিস্কুটের ২০০ বছর, বোস্তামি কাছিম কিংবা চট্টগ্রামের বলী খেলার ইতিহাস জানতে চাইলে আহমদ মমতাজের বিকল্প নেই। আঞ্চলিক ইতিহাসের নিষ্ঠাবান গবেষক ছিলেন তিনি। ‘মুক্তিযুদ্ধের কিশোর ইতিহাস : চট্টগ্রাম জেলা’, ‘বাংলাদেশে কমনওয়েল্থ যুদ্ধসমাধি’, ‘বাহান্নর ভাষাসংগ্রামী’,‘ শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু’ তাঁর গবেষণার বই। বেশ কিছু গ্রন্থের সহলেখক হিসেবে কাজ করেছেন তাঁর জুটি রাইহান নাসরিন। বাংলা একাডেমিতে চাকরিতে যোগদানের আগে মমতাজভাই যতদিন এসেছেন, একা আসেননি, সঙ্গে লেখক রাইহান নাসরিনও আসতেন। একাডেমির বাইরে কোনো অনুষ্ঠানে বা চলতি পথে দুজনকে একসঙ্গেই দেখতে পেতাম। বাংলা একাডেমি দুজনের যৌথরচনা বেরিয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী বিনোদবিহারী চৌধুরীর জীবনী লিখেছেন দুজনে মিলে। আমি কলকাতা থেকে কিছু ছবি এনে দিয়েছিলাম। মমতাজ ভাই ‘চট্টগ্রাম পরিক্রমা’ নামে একটি গবেষণা পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। আমি ‘ফরিদপুর ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ নামের একটি গবেষণাপত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত জেনে আমাদের অন্যরকম সখ্য ছিল। তিনি ‘শমসের গাজী’ নিয়ে একটি অসাধারণ ইতিহাসগ্রন্থ লিখলেন। এক পর্যায়ে পাণ্ডুলিপিটি দেখার সুযোগ হয় আমার। আমি জানালাম যে সমশের গাজী নিয়ে ‘যাত্রাপালা’ আছে। তাতেও কল্পিত কিছু কাহিনি ও চরিত্র আছে। আছে কিছু জনশ্রুতি। তাঁকে বললাম জনশ্রুতি থেকেও ইতিহাসের উপকরণ পাওয়া যায়। তিনি আবার ঘাঁটতে শুরু করলেন। আমিও যাত্রাপালার তথ্যটি সংগ্রহ করে দিলাম। বইটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এরকম অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের তথ্যবিনিময় চলে। তাকে মাস দুয়েক আগে কবি সৌমিত্র দেবের কাছ থেকে একটি দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থের ফটোকপি এনে দিলাম। তখনও তিনি অসুস্থ। নাসরিন আপাও অসুস্থ দীর্ঘদিন ধরে। দুজনে দুজনের সেবা করতেন। এখন নাসরিন আপা একা চলবেন কী করে? আহমদ মমতাজ বাংলা একাডেমিতে একটু বেশি বয়সে যোগদান করেন সহপরিচালক হিসেবে। বাংলা একাডেমি প্রেসে ছিল তাঁর অবস্থান। মুদ্রণশৈলী ভাল বুঝতেন। তাঁর মাপের একজন ইতিহাস-গবেষক বাংলা একাডেমিতে কাজ করেছেন, এটা আমাদের গৌরব। প্রাক্তন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান স্যারকে ধন্যবাদ জানাই তিনি তাঁকে খুঁজে এনে বসিয়েছিলেন। মমতাজ ভাই সত্যিসত্যি চলে গেলেন? আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। আপনার ঘরে গেলে খালি মুখে ফিরিনি কখনো। নাসরিন আপা যেদিন আসতেন, বাটি ভরে খাবার নিয়ে আসতেন। তা কেবল আপনার জন্য নয়, আমাদের মতো ছোটভাইদের জন্যও। আহমদ মমতাজের কাজের মূল্যায়ন হয়নি। অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী এই ইতিহাসবিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

 

 

Side banner